Home তথ্যপ্রযুক্তি “পৃথিবীর শুরু এবং শেষ”

“পৃথিবীর শুরু এবং শেষ”

160
0

সম্পাদকঃ- সাদমান আহমেদ

বিজ্ঞান সত্যিই বিষ্ময়কর। মহাকাশবিজ্ঞান তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিষ্ময় বহন করে। কিছু কিছু প্রশ্ন আমাদের সকলের মনে নাড়া দেয়। তার সঠিক উত্তর খোজে পাওয়া খুব কঠিন। তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়,”কি হবে যদি এই বিশ্ব বৃদ্ধি না পায়?, আর বাড়তে না পারে, যদি এটি থমকে যায়?”

এই বিষয়ে চিন্তা আমাদের মাঝে গুটিকয়েক মানুষের মাঝে খোজে পাওয়া যাবে। কেউ শোনে আবাক হবে যে এই মহাবিশ্বের বৃদ্ধি আছে। হ্যা মহাবিশ্ব নিজে গতিতে বাড়ছে। এর আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্ত কি হবে যদি এটি থমকে যায় একটু চিন্তা করলে কেমন হয়?

এই মহাবিশ্ব কি?
প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন আগে একটি সিঙ্গগুলারিটি বৃদ্ধি পেতে পেতে যার রূপ নিয়েছে তাই আমাদের মহাবিশ্ব ।


তাহলে সিঙ্গগুলারিটি কি?
এটি একটি বিন্দু,যার থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও শেষ। ইনফিনিটি ঘনত্ব এবং ভর নিজের
মধ্যে নেয়ার প্রবল ক্ষমতা বিশিষ্ট যে সকল বস্তুর স্পেস টাইমে ধারনা করে। অনেকটাই ব্ল্যাক হোল টাইপ কন্সেপ্ট। ব্ল্যাক হোল এক বা ততধিক তারার নিঃশেষ আর সিংগুলারিটি পুরো।

চলে আসি উত্তরে কি হতে পারে যদি বিশ্ব থমকে যায়? সকল ছায়াপথ,তারাকারা কি বরফ হয়ে যাবে? না সবাই নির্দিষ্ট কোন বিন্দুতে পতিত হবে? তবে এটাই কি মহাবিশ্বের শেষ?

১৯২০ এর আগের দিকের কথা,যখন এডউইন হাবেল লক্ষ্য করেন যে ছায়াপথগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমরা ভাবা শুরু করি, এই বিশ্ব তাহলে বোধ হয় স্থির।

বছরখানেক পর হাবেল টেলোস্কোপ দেখায় যে শুধু এই মহাবিশ্ব বাড়ছেইনা বরং এটি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তৈরী হচ্ছে অনেক অনেক দ্রুত গতিতে। জ্যোতিঃ পদারথবিজ্ঞানীদের কাছে এ ছিল অনেক বড় বিষ্ময়। তারা ডাকতো হয়তো মধ্যাকরষন বলের কারনে এটি ধীর হচ্ছে প্রতিনিয়ত,কিন্তু ঘটনা পুরোপুরি উল্টো ছিল।

তারা ধরে নিল যে এখানে এমন একটি বল কাজ করছে যা এই বৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা এর নাম দিল “DARK ENERGY”.

কি হবে যদি এই ধারনার শক্তি হঠা
ৎ মহাবিশ্ব থেকে দূরে সরে যায়বা টানবল বন্ধ করে দেয়।

ধরা নেই ডার্ক এনার্জি সময়ের সাথে সাথে বিলীন হয়ে গেল কিন্তু মধ্যাকরষন এমন কাজ করছে। কেমন হবে তা দেখতে?
যদি সত্যিই এমন হয়,তাহলে তা হবে যেমনটি আলবার্ট আইনস্টাইন ভেবেছিল ১০০ বছর আগে। হাবেলের আবিষ্কারের আগে যা ঘুরিয়ে দেয় সব পুরোনো চিন্তা আর আইনস্টাইনের ধারনা। এই মহাবিশ্ব হয়ে যাবে স্থির। এটি আর বৃদ্ধি পাবেনা,চলবেনা।

তখন পুরো বিশ্ব থেকে যেসব গ্রাস প্রয়োজন ছিল নতুন তারকা উৎপন্ন করতে তা তারা নিয়ে যাবে। নতুন কিছু তারকা জন্ম নিবে। আর পুরোনো তারকাগুলো পুরো ভস্ম হয়ে যাবে, বিশ্ব অন্ধকার হতে শুরু করবে। চারদিকে ব্ল্যাক হোলস থাকবে। ততদিনে এই পৃথিবীর  অস্তিত্ব থাকবে না, সূর্যের দ্বারা গ্রাস হয়ে যাবে।

বিশ্ব ঠান্ডা হতে শুরু করবে। তাপমাত্রা কমতে থাকবে ( -২৭৩.১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস অথবা -৪৫৯.৬৭ ফারেনহাইট)। এই তাপমাত্রায় পরমানুর বন্ধন ভেঙ্গে দিয়ে, নিজেদের স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পড়বে।পুরো বিশ্ব জীবন শূন্য হয়ে পড়বে।

একটু পিছনে চলে আসি। ধরা যাক, DARK ENERGY
খুব শক্তিশালী যা মধ্যাকরষন শক্তিকে বাধা দিতে পারেনা। যখন মধ্যাকরষন বল বাড়বে,এটি সব তার নিজের দিকে টেনে নেয়া শুরু করবে। মহাবিশ্ব সংকুচিত হওয়া শুরু করবে। ছায়াপথগুলো একে অপরের দিকে আসতে থাকবে। তারা একটি মহা ছায়াপথ গঠন করবে। এই মহা ছায়াপথ এখন সূর্যের সাথে মিশে যাবে এবং মহাবিশ্ব হবে সূর্যের চেয়ে বেশি তাপের।

আর আবারো মহাবিশ্ব পূরন হবে অনেক ব্ল্যাক হোলে। তারাকারাজির বিষ্ফোরন ঘটবে এবং এই ব্ল্যাক হোলগুলো আশেপাশের সব নিঃশেষ করবে, এমনকি নিজেদেরকে। অর্থাৎ একটি ব্ল্যাক হোল আরেকটি ব্ল্যাক হোলের সাথে মিশে ধারনাতীত শক্তি সম্পন্ন ব্ল্যাক হোলে পরিনত হবে। সব একত্রিত হয়ে একটি  SINGLE POINT এ এসে পরিনত হবে। যা থাকবে গরম,ক্ষুদ্র এবং ঘন। অর্থাৎ মহাবিশ্ব পরিনত হবে বড় একটি crunch এ। সরু লম্বা লাইনের মতো যার শুরু একটি বিন্দু থেকে। এটি প্রথমে দেখতে যেমন ছিল।
এমন হতে পারে, সিঙ্গগুলারিটি আবার একটি BIG BANG মধ্য দিয়ে নতুন মহাবিশ্ব বানাবে। আসলে আমরা তো ঠিকভাবে এখনো জানিনা কিভাবে এই বিশ্বের শেষ হবে। এই DARK ENERGY জিনিসটাই বা কত শক্তিশালী। একটি থিওরী বা তথ্য দিয়ে তা বিশ্লেষন করা কঠিন। তবে এর শুরু SINGULARITY এবং শেষ SINGULARITY।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here